শিরোনাম
উল্লাপাড়ায় প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর মাঝে হুইল চেয়ার বিতরণ রায়গঞ্জে ভোট যুদ্ধে এগিয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী ইমন তালুকদার কাজিপুর গোয়ালবাথান উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে দুর্নীতি উল্লাপাড়ায় আনারস চাষে সফলতার সম্ভাবনা রায়গঞ্জে এস.কে.বি ভাটা মালিক কর্তৃক ভূমি লিজ দাতাকে প্রাণনাশের হুমকি ধুনটে দুস্থ মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী ও টিউবয়েল বিতরণ কাজিপুরে হেরোইনসহ মাদক সম্রাট ‘বাদশা’ গ্রেফতার সিরাজগঞ্জের বাগবাটিতে হামলার ঘটনায় জড়িত নয়ন কুমার আটক সিরাজগঞ্জে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর ১২৫ তম জন্মোৎসব পালন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শেরপুরে ট্রাক ও ট্রলি মুখোমুখি সংঘর্ষ নিহত এক
রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ০৭:০৮ অপরাহ্ন

কাজিপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হাবিবুরের বিরুদ্ধে সীমাহীন অনিয়ম-দূর্নীতির অভিযোগ

রিপোর্টারের নাম / ৭১৬ Time View
হালনাগাদ : সোমবার, ৩১ জুলাই, ২০২৩

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে নানা অজুহাতে উৎকোচ আদায়সহ বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

শিক্ষা কর্মকর্তার এমন বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্রে জানা যায়, চলতি জুলাই মাসে শুরু হওয়া নতুন অর্থ বছরের(২০২৩-২৪) বাজেট পাশ করার সময় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতনের ৫’শতাংশ প্রণোদনা দেওয়ার ঘোষণা দেয় সরকার।

ঘোষিত এ প্রণোদনা মূল বেতনের সাথে সংযোজন করতে শিক্ষকদের নিকট থেকে ৫০’থেকে ১’শ টাকা, চলতি অর্থ বছরে উপজেলার ২৩৭’টি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংস্কার কাজের (শ্লিপ) ও রুটিন মেরামতের অর্থ ছাড় দিতে বিদ্যালয় প্রতি ২’হাজার টাকা, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার জন্য উপজেলার ২৩৭’টি বিদ্যালয় থেকে বাধ্যতামূলকভাবে ১’হাজার টাকা আদায়, বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র মেরামত ও খেলনা সামগ্রীর জন্য বরাদ্দের টাকা উত্তোলনে ঘুষ আদায় সহ সকল বরাদ্দে শিক্ষা কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান নির্দিষ্ট অর্থ আদায় করছে বলে দাবি করছেন ভুক্তভোগী শিক্ষকেরা।

সম্প্রতি কাজিপুর উপজেলায় নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ১৫১’জন সহকারী শিক্ষকের নিকট থেকে বেতন কাঠামো তৈরির নামে জন প্রতি ১’হাজার টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছে এ কর্মকর্তা।

আর এ ঘুষ আদয়ের হাতিয়ার হিসেবে তিনি ব্যবহার করছেন শিক্ষক শাহ আলমকে। শাহ আলম উপজেলার বড়ইতলা দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হলেও দীর্ঘ ১৮’বছর ধরে উপজেলা শিক্ষা অফিসে ডেপুটেশনে রয়েছে বলে জানা গেছে।

এছাড়াও অভিযোগ উঠেছে ২০১৮’সাল থেকে উপজেলা শিক্ষা অফিসে গোদাগাড়ী গাড়াবেড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিওন মুকুলকেও জনবল সংকটের অজুহাত দেখিয়ে ডেপুটেশনে এনে একটি সক্রিয় সিন্ডিকেট তৈরি করে বরাদ্দ দেওয়া বিদ্যালয়গুলোর উন্নয়ন কাজের ঠিকাদারি নিযুক্ত করছেন এ কর্মকর্তা। যার মাধ্যমে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে নাম মাত্র দায়সারাভাবে কাজ করে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা।

সম্প্রতি শিক্ষা অফিসারের অনিয়ম-দুর্নীতি এবং হয়রানির কারণে শিক্ষক মহলে ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভ প্রকাশ করতেও দেখা গেছে। ভুক্তভোগী শিক্ষকগণ উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট শিক্ষা কর্মকর্তার এসকল অনিয়ম -দূর্নীতির তদন্ত দাবি করে দ্রুত অপসরণের দাবি জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রধান শিক্ষক জানায়, উপজেলা শিক্ষা অফিস দূর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। শিক্ষা কর্মকর্তা হাবিবুরের চাহিদা অনুযায়ী টাকা না দিলে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়।

কাজিপুর চরাঞ্চলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরও জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয় সংস্কার কাজের জন্য (শ্লিপের অর্থ) প্রত্যেক বিদ্যালয়ের অনুকূলে ৪০ হাজার টাকা করে অর্থ বরাদ্দ আসে। এসব অর্থ উত্তোলন করতে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে দুই হাজার টাকা দিতে হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসার সম্পূর্ণ অনৈতিকভাবে আমাদের কাছ থেকে সকল বরাদ্দের বিপরীতে শতকরা হারে কেটে রেখেছেন। শিক্ষকরা এই টাকা নেয়ার কারণ জানতে চাইলে নিজের অফিস খরচ এবং উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিস ম্যানেজের কথা বলেন ওই কর্মকর্তা। হয়রানির ভয়ে আমরা প্রকাশ্যে প্রতিবাদও করতে পারিনা।

অভিযোগের বিষয় জানতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাবিবুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুখময় সরকার জানান, লিখিতভাবে এখন কোন অভিযোগ পাইনি। তবে অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম মন্ডল জানান, বরাদ্দের বিপরীতে এভাবে টাকা নেওয়ার কোন সুযোগ নেই। তবে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা।

ঝর্ণা আক্তার/ আজকের সিরাজগঞ্জ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর